Wednesday, February 27, 2019

পিএইচডি—সরল, গরল কথা!

পিএইচডি!


বাংলাদেশে পিএইচডি-কে যেভাবে দেখা হয়, আসলে সেটা তেমন কিছুই না। পিএইচডি হলো গবেষণার হাতেখড়ি। একজন শিক্ষার্থী সে সময়ে, গবেষণা কী করে করতে হয় সেটা শেখে। ডক্টরেট ডিগ্রীকে দেশের লোকজন (সিংহভাগ) যেভাবে তাবিজের মতো গলায় ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করে, এটা আসলে সেটা তেমন কিছুই না। আমি যখন স্টকহোম ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করি, তখন সকাল-বিকলা ষাট-সত্তর জন সহকর্মীর সাথে দেখা হতো। তারা সবাই পিএইচডি-পোস্টডক করতো। সে ডিপার্টমেন্ট চলতো শুধু গবেষক দিয়ে। তাদের নব্বই শতাংশের বয়স ২৪-২৮ বছর।
গবেষণা একটা পেশা। এই ধারণাটাই আমাদের দেশে গড়ে উঠেনি। গবেষণা যারা করে তারাই গবেষক, উদ্ভাবক, বিজ্ঞানী। যেহেতু এটা একটা পেশা, তাই এর প্রস শুরু করতে হয় কাঁচা যৌবন থেকেই। সারা দুনিয়ায় গবেষণার শিক্ষাটা শুরুটা হয় ব‍্যাচেলর থেকে। তারপর পিএইচডির সময় (৩-৬ বছর) গবেষণা শিখতে হয় পাকাপোক্তভাবে। (আমাদের দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ‍্যালয়গুলোতে চার বছরের স্নাতক আছে। অথচ, সিংহভাগ প্রতিষ্ঠানে স্নাতক পর্যায়ে কোন গবেষণার সুযোগ নেই। বিষয়টা খুবই দুঃখজনক।)
পিএইচডির সময় একজন শিক্ষার্থীকে যে কয়েকটি বিষয় অবশ‍্যই ভালোভাবে শিখতে হয়: ০১. একটা প্রজেক্ট কী করে ডিজাইন করতে হয়। ০২. সে প্রজেক্ট থেকে পর্যাপ্ত/সন্তুষ্টজনক ফলাফল দাঁড় করানো। ০৩. প্রজেক্ট শেষে সেটাকে আর্টিকেল আকারে লেখা ও জার্নালে প্রকাশ করা। ০৪. নিজের কাজকে উপস্থাপন করতে শেখা এবং ফান্ড/গ্রেন্টের জন‍্য রিসার্চ প্রপোজাল লিখতে শেখা। এই কয়েকটি বিষয় যতো স্মার্টভাবে এবং গভীরভাবে শেখা যায়, ততোই ভবিষ‍্যতের পথ সুগম হয়।
পিএইচডির সময় ভালো জার্নালে পাবলিকেশনের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভালোভাবে কাজ শেখা। নতুন নতুন আইডিয়া উদ্ভাবন করতে শেখা। যে কোন বিষয়কে বিভিন্নভাবে চিন্তা করতে পারা। অসমাধানকৃত (Unsolved) বিষয়ের সমাধান খুঁজার চেষ্টা করা। কোন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করতে শেখা। মানুষ যখন একটা যৌক্তিক প্রশ্ন করতে যায়, তাকে সে বিষয়টি নিয়ে ভালোভাবে জানতে হয়। প্রশ্ন করার ক্ষমতা মানুষকে স্মার্ট করে। নানান দৃষ্টিকোন থেকে একটি বিষয়বস্তুকে ভাবতে শেখায়।
পিএইচডির সময় সে কাজগুলো বেশি বেশি করতে হয়: ০১. প্রচুর আর্টিকেল পড়া। ০২. বড়ো বড়ো গবেষকদের কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে জানা ও বুঝা। ০৩. সুযোগ মতো বিজ্ঞানী ও খ‍্যাতনামা গবেষকদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা এবং তাদের লেকচার শুনা। ০৪. ছোট হোক বড়ো হোক, বিভিন্ন আইডিয়া জন্ম দেয়ার চেষ্টা করা। ০৫. সহকর্মীদের সাথে প্রচুর আলোচনা করা। মানুষ যখন অন‍্যের সাথে আলোচনা করে, তখনই তার দুর্বলতা সহজে উপলব্ধি করতে পারে। গবেষণা করতে গেলে ইগো নিয়ে আত্মকেন্দ্রিক হওয়া যায় না। এটা বিনাশী ও আত্মঘাতী। 
……….
রউফুল আলম
নিউইর্য়ক।

Monday, February 25, 2019

ঢাবি'র IBA সম্পর্কিত তথ্যাদি!

আইবিএ অধ্যয়ন


★IBA (BBA/ MBA)- আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর:
► আইবিএ কি?
ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনেসট্রশন; এটি ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র
প্রতিষ্ঠান যেখানে বিবিএ ও এমবিএ, এক্সিকিউটিভ এমবিএ পড়ানো হয়।
► আইবিএ বলতে কি শুধু ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএকেই বোঝায়?
জ্বি না, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইবিএ আছে, জাহাঙ্গীরনগরেও আইবিএ আছে কিন্তু যদিও এখনও মানুষ আইবিএ বলতে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের আইবিএটাকেই বোঝে।
► আইবিএতে কারা পড়তে পারে?
যেকোন গ্রুপ থেকে (সাইন্স/আর্টস/কমার্স) এইচ এসসি পাশ করার পরে বিবিএতে আর যেকোন গ্রুপ থেকে (সাইন্স/আর্টস/ কমার্স) অনার্স/বিবিএ/বিএসসি অর্থাৎ চার বছরের যেকোন কোর্স পাশ করে
এমবিএতে ভর্তি পরীক্ষা দেয়া যায়।
► জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের/ প্রাইভেট
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা কি এখানে
পড়তে পারবে?
হ্যাঁ অবশ্যই পারবে এবং এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই এখানে পড়তেছে।
► এখানে ভর্তির যোগ্যতা কি?
বিবিএতে যোগ্যতা: যেকোন গ্রুপ থেকে
এসএসসিতে ৩.০০, এইচএসসিতে ৩.০০ করে মোট 7.50 এবং এমবিএতে
ভর্তির যোগ্যতা: যেকোন গ্রুপ থেকে এসএসসিতে ৩.০০, এইচএসসিতে ৩.০০, অনার্স এ সেকেন্ড ক্লাশ বা ২.৫০ হলেই হবে।
► ডিগ্রীর ছাত্র-ছাত্রীরা কি IBA-MBA করতে পারে?
হ্যাঁ পারে, এটাই আইবিএর স্বতন্ত্র, একজন বুয়েটের ছেলেও হয়ত বাদ পড়তে পারে আবার একজন ডিগ্রীর ছেলেও চান্স পেতে পারে যদি সে Admission Test এ ভাল করে।
► আইবিএ তে নাকি ৯০ ভাগ ইংরেজী
মাধ্যম বাকি ১০ ভাগ নাকি বাংলা মিডিয়ামরা চান্স পায়?
এ ধারণাটা একসময় ছিল এখন পরিবর্তন হয়েছে, এখন প্রায় ৫০-৫০ চান্স পায়। একটা সময় হয়ত আসবে যখন বাংলামিডিয়াম পাবে ৯০% আর ওরা হয়ত ১০% কারণ ইংরেজী মিডিয়াম পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা বিদেশে পড়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে ।
► আইবিএর এমবিএতে কয় ধরনের এমবিএ আছে?
দুই ধরণের-রেগুলার এমবিএ আর এক্সিকিউটিভ এমবিএ; রেগুলার এমবিএর আবার দুটো ধরণ আছে একটা পার্টটাইম
যেটার ক্লাশ হয় সন্ধ্যায়, আর ফুল টাইম এদের ক্লাশ হয় দিনের বেলায়, এছাড়া এক্সিকিউটিভ এমবিএর ক্লাশও রাতে হয়।
► এক্সিকিউটিভ এমবিএর জন্য যোগ্যতা কি লাগে?
০৪ বছর মেয়াদী অনার্স পাশ + কমপক্ষে ০৩ বছরের চাকুরীর অভিজ্ঞতা।
► এক্সিকিউটিভ এমবিএ আর রেগুলার এমবিএর মধ্যে পার্থক্য কী?
রেগুলার এমবিএর মোট কোর্স ২০টি, এক্সিকিউটিভ এমবিএ এর মোট কোর্স ১২টি, রেগুলার এমবিএ করতে
সময় লাগে ২বছর থেকে ৩.৫ বছর আর এক্সিকিউটিভ এমবিএ করতে সময় লাগে ১.৫ থেকে ২ বছর, রেগুলার এমবিএ পড়তে মোট খরচ ৭৫ হাজার টাকার মত আর এক্সিকিউটিভ এমবিএ এর মোট খরচ ২.৫ লাখ প্রায়। রেগুলার এমবিএ করতে অভিজ্ঞতা লাগেনা আর এক্সিকিউটিভ এমবিএ করতে ০৩ (তিন) বছরের ফুলটাইম জবের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
► রেগুলার এমবিএ আর এক্সিকিউটিভ এমবিএর মধ্যে ভাল কোনটা?
দুটোই ভাল, রেগুলারটা ফ্রেশ
গ্রাজুয়েটদের জন্য আর
এক্সিকিউটিভ টা ম্যানেজারিয়ল লেভেল এর জন্য ভাল।
► আমি তো চাকুরী করি দিনে সুযোগ পাই না কিন্তু চাকুরীর অভিজ্ঞতাও ০৩ বছর হয় নি, আমি কি চাকুরীর পাশাপাশি আইবিএ তে এমবিএ করতে পারব?
হ্যাঁ পারবেন, আপনি রেগুলার এমবিএর পার্টটাইমে পড়তে পারবেন কারণ এর ক্লাশ হয় রাতে (৭.০০থেকে শুরু)।
► এমবিএর খরচ কেমন পড়বে?
রেগুলার এমবিএ: ৭৫ হাজার টাকার মত এক্সিকিউটিভ এমবিএ: ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মত।
► পড়তে কত বছর সময় লাগে?
এক্সিকিউটিভ এমবিএ: মোট ১২ টা কোর্স, বছরে ৩টা সেমিস্টার, যদি ৩টা করে কোর্স নিতে পারেন তাহলে এক বছরের একটু বেশি সময় লাগবে।
রেগুলার এমবিএ: ফুলটাইম মোট ২০ টা কোর্স।
► বিবিএ পড়ার খরচ কত?
বিবিএ পড়তে খরচ সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য সাবজেক্ট পড়তে খরচ যেমন-অর্থ্যাৎ চার বছরে মোট ২৫-৩০ হাজার টাকা লাগতে পারে।
► আমি যদি ফুলটাইম প্রোগামে ভর্তি হই কিন্তু কিছুদিন পরে চাকুরী পেয়ে যাই তাহলে কি হবে?
আইবিএর এমবিএ খুবই ফ্লেক্সিবল, এক সেমিস্টার পরে শিফট করে নাইটে অর্থ্যাৎ
► কম্পিটিশন কেমন ভাই?
প্রতিযোগির সংখ্যা-রেগুলার এমবিএ: ৪০০০ থেকে ৪,৫০০ মাত্র;
এক্সিকিউটিভ এমবিএ: ১,৫০০-২,০০০ মাত্র।
Note: এখানে একটা কথা বলে রাখি প্রতিযোগির সংখ্যা দেখে নয় বরং তাদের কোয়ালিটি দেখে বুঝতে হবে কম্পিটিশন কেমন হবে! এখানে ৪ হাজার এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার এর মত থাকে বুয়েটের আর প্রায় দেড় হাজার থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের + অন্যান্য...
► রেগুলার এমবিএর ক্লাশ কবে কবে হয়?
সপ্তাহে চারদিন ক্লাশ থাকে, আর এটা নির্ভর করবে একটা সেমিস্টার এ আপনি কি কি সাবজেক্ট নিবেন।
► এখানে কতবার পরীক্ষা দেয়া যায়?
যতবার ইচ্ছা দিতে পারবেন।
► ভর্তি পরীক্ষা বছরে কতবার অনুষ্ঠিত হয়?
বিবিএ: বছরে ০১(এক) বার- ডিসেম্বর মাসে। রেগুলার এমবিএ: বছরে দুইবার- জুনে একবার আর ডিসেম্বরে আরেকবার। এক্সিকিউটিভ এমবিএ: বছরে তিন বার, জানুয়ারি-এপ্রিল-অক্টোবর।
► আসন সংখ্যা কত?
বিবিএ: ১২০টি। রেগুলার এমবিএ: জুনে ৬০ জন আর ডিসেম্বরে ১২০ জন। এক্সিকিউটিভ এমবিএ: প্রতিবার ৪০ জন করে বছরে মোট ১২০ জন।
► ভর্তি পরীক্ষায় কত মার্কস এর আর কি কি আসে?
বিবিএ: ১০০ মার্কস (ইংরেজী-৩০, ম্যাথ-৩০, এ্যানালাইটিক্যাল-২০/২৫, রাইটিং ১৫/২০)
রেগুলার এমবিএ: ১০০ মার্কস (ইংরেজী-৩০, ম্যাথ-৩০, এ্যানালাইটিক্যাল-১৫, রাইটিং ৫/১০)
এক্সিকিউটিভ এমবিএ: মোট ৭৫ (ইংরেজী-৩০, এ্যানালাইটিক্যাল-২০/২৫, রাইটিং ১৫/২০)
► শুনেছি আইবিএর বিবিএর প্রস্তুতি নাকি এমবিএর প্রস্তুতিও কভার করে?
হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। যেকোন একটির প্রস্তুতি নিলে অন্যটিরও প্রস্তুতি হয়ে যায়। আর প্রশ্নপত্রও একই রকম।
► BBA/ MBA এর জন্য Study Gap এর কোন শর্ত আছে কি?
BBA/MBA এর জন্য Study Gap কোন বিষয় নয়।
► আইবিএ থেকে পাশ করলে চাকুরীর নিশ্চয়তা কি?
পাশ করার আগেই হয়ত চাকুরী হয়ে যাবে।
► আইবিএতে মূলত কারা চান্স পায় একটু বলবেন?
আমাদের ব্যাচের ৬০ জনের মধ্যে কমবেশি-১০/১১ জন ছিল বুয়েটের, ৯/১০ জন ছিল ডুয়েট, রুয়েট, চুয়েট, কুয়েট ইত্যাদির, ৬/৭ জন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমার্স ফ্যাকাল্টির, ০২/০৩ জন ছিল আর্টস ফ্যাকাল্টির, ০৪/৫ জন ছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের, ০২জন ছিল শুধু ডিগ্রি পাশ, চিটাগাং ইউনিভার্সিটির ছিল ০২জন, জাহাঙ্গীর নগরের ০২/০৩ জন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের (BRAC, NSU, Eastern, Stamford, Ahasanullah, EWU ০৭/০৮ জন। ০২/০৩ জন ছিল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের। বিদেশী ডিগ্রী ছিল ০২ জনের, আইবিএর বিবিএ ব্যাকগ্র্যাউন্ড এর ছিল ০৩/০৪ জন।
০৩/০৪ জন ছিল অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের।
► যারা আইবিএর বিবিএ করে তাদেরও কি আবার এমবিএতে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয় নাকি সরাসরি ভর্তি হয়?
আইবিএতে সবাইকেই ভর্তি পরীক্ষা দিতে হয়।
► বিগত বছরের বইগুলো কোন বই থেকে পড়ব?
বিগত বছরের বইগুলো সাইফুর’স বা মেন্টর’স এর বই থেকে পড়তে পারেন তবে আমার কাছে সাইফুর’স এর
বইটা ভাল মনে হয়েছে কারণ ম্যাথের ব্যাখ্যাগুলো ভালভাবে দিয়েছে।
► কী কী বই পড়তে হবে ?
IBA BBA Program Package Book
S@ifur’s IBA BBA Admission Guide
S@ifurs Vocabulary= পানি 280/-
S@ifur’s Math 250/-
S@ifur’s Fill in the Blanks 230/-
চাকুরি+ ভার্সিটি ভর্তি গ্রামার 200/- 
CCTV গ্রামার 150/-
S@ifur’s Analogy 180/- 
Analytical Puzzle 200/-
S@ifur's IBA MBA প্রশ্ন ও সমাধান
S@ifur's Passport to Grammar
Writing Translation 260/-
দেশের যেকোনো জায়গা থেকে কুরিয়ারে পেতে কল করুন 01713432060/70
এমবিএ: এগুলো পড়লে ট্রেন্ড বুঝতে পারবেন, আপনার লেভেল জাজ করতে পারবেন।

(জেনে নিন: DU IBA (BBA & MBA) ভর্তি পরীক্ষার উপর Workshop ও ক্লাস নিবেন DU IBA-রই ex-শিক্ষক ‍Saifur স্যার, ৯জুন (এই শুক্রবার) ১০:০০ টায় S@ifur's পান্থপথ ব্রাঞ্চের ক্যাম্পাস-৫, 01613432086/ 016134302006 Registration ফি 100 টাকা মাত্র)

আইবিএর ডিগ্রী যদি হয় আপনার স্বপ্ন, তাহলে প্রস্তুতি শুরু করুন এখনই!

আমি ঢাকা বিশ্বদ্যিালয় ক্যাম্পাস থেকে বলছি। তোমাদের যেকোনো সহযোগিতায় (কোচিংয়ে ভর্তি, হোস্টেল সিট) পাশে আছি।
01613432089/01760778584 Amanullah Aman
(সংগৃহীত)

এছাড়াও প্রস্তুতি সম্পর্কিত বিস্তারিত জানতে পারেন এই লিংক ভিজিট করে→ http://10minuteschool.com/blog/du-iba-admission-preparation/

Thanks | ধন্যবাদ

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যে ১৫টি উপদেশ মেনে চলা উচিত!

ক্যাম্পাস লাইফ


বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নানা মানুষের কাছ থেকে হাজারো উপদেশ শুনবে। এটা করো, সেটা করো না ইত‍্যাদি শুনতে শুনতে তুমি হয়তো কনফিউজড হয়ে যাও। এখানে তাই ১৫টি উপদেশ দেয়া হলো যা সবার জীবনেই বাস্তবায়ন করা উচিত:

১। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ক‍্যারিয়ার গড়ার জায়গা না; জীবনকে উপভোগ করতে শেখার সেরা স্থান। তাই, লক্ষ‍্য রেখ যেন চার বছর পর একটা সার্টিফিকেটই তোমার একমাত্র অর্জন না হয়।

২। ক্লাস ছুটির পর বাসায় গিয়ে পড়তে বসা/ টিউশনিতে না গিয়ে কিছুটা সময় বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিবে। তাস খেলা শিখবে। বুড়ো বয়সে গিয়ে এটাই সবচেয়ে মিস করবে!

৩। নিজ বিভাগের শিক্ষার মান, ল‍্যাবের সুবিধা নিয়ে কমেন্ট করার আগে চিন্তা করবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগ গুলোর তুলনায় আমাদের অবস্থান কতটুকু ভালো! বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টুডেন্টরা সার্কিট, পেট্রি ডিসও ধরার সুযোগ পায় না। MIT/ Harvard-এর আশা এখান থেকে না করাটাই ভালো। এই সত্য যত তাড়াতাড়ি বুঝবে তত ভালো। প্রথম বর্ষে সবাই অনেক আশা নিয়ে আসে। সত্য এবং আকাঙ্ক্ষার মাঝের ব্যবধান নিজেকেই ঘুচিয়ে আনতে হবে।

৪। বিশ্ববিদ‍্যালয়ের শিক্ষকরা নির্দেশক। তাদের কাছ থেকে নোট/ স্লাইড পাওয়ার আশা করে বসে থাকা উচিত না। এটা কোচিং সেন্টার না। এখানে তুমি কতটুকু পড়বে সেটা সিলেবাসে থাকে না। তুমি চাইলে নিজে নিজে পড়ে তোমার শিক্ষকের থেকেও ডিপ নলেজ পেতে পারো। তাই, নিজের জানার পরিধি কেবল ক্লাসের লেকচারে বেঁধে রেখো না। এমনকি কেবল নিজের সাবজেক্টে আটকে রেখো না। সব সায়েন্সের ব্রেক থ্রোর কথাই পড়বে। দিন শেষে যাতে একজন জ্ঞানী মানুষ হতে পারো।

৫। বিভাগের প্রত‍্যেক অনুষ্ঠানেই আয়োজক/ পারফরমারের ভূমিকা পালন করবে। লক্ষ করলেই দেখবে, কেউই আহামরি নাচ-গান-অভিনয় পারে না। সবাই তোমার মত! তাই, লজ্জা না পেয়ে সবাই যা করছে তাতে অংশগ্রহণ করো। বিভাগের প্রতি তাহলে একটা ভালোবাসা তৈরি হবে।

৬। মানুষ দুই রকমের– কেউ গ্লাসের অর্ধেক ভর্তি দেখে (optimistic), আর কেউ দেখে একটা গ্লাসের অর্ধেক খালি(Pessimistic)। বড় ভাইদের কাছে উপদেশ নেয়ার সময় দ্বিতীয় গোত্রের কাছ থেকে দূরে থাকবে। এখন কথা হলো, কীভাবে বুঝবে কে কোন গোত্রের? লক্ষ‍্য করে দেখ, কোন সিনিয়ররা বিভাগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করে। এরাই দ্বিতীয় গোত্রের। প্রথম গোত্রের ছাত্ররা কিছু না থাকলেও সেখানে কিছু আছে তা দেখানোর চেষ্টা করবে।
নিজের জানার পরিধি কেবল ক্লাসের লেকচারে বেঁধে রেখো না

৭। বিভাগে পড়ে ভবিষ্যতে কি চাকরী করবে তা নিয়ে প্রথম বর্ষে চিন্তা করে আনন্দ মাটি করবে না। চাকরী নিয়ে মাথা ব‍্যথা চতুর্থ বর্ষে যেয়ে কইরো। এর আগে সবকিছু বোঝার ক্ষমতা সবার হয় না। তাই, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম তিন বছর নিজ সেক্টরের জ্ঞান অর্জন ও বন্ধু-বান্ধবের আড্ডায় ব‍্যয় করাটাই শ্রেয়। চাকরির দুশ্চিন্তাটা চতুর্থ বর্ষের জন‍্যই তোলা থাক।

৮। ক্লাসের একদল সহপাঠী থাকবে যারা সব অজুহাতে পরীক্ষা পেছানোর ধান্দায় থাকবে। নিজে সেই দলের অংশ হয়ে যেয়ো না। পরীক্ষা কালকে সকালে হোক আর অগাস্ট মাসে হোক, তুমি পড়বে সেই আগের রাতেই। তাই, সময়ে সময়ে সব মিডটার্ম দিয়ে দাও।

৯। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন‍্যতম আনন্দের মুহূর্তগুলো হচ্ছে ফাল্গুন, বৈশাখ, বর্ষবরণের অনুষ্ঠানগুলো। তাই, বাসায় বসে পহেলা বৈশাখের ছুটিতে সারাদিন না ঘুমিয়ে থেকে বরং বন্ধুদের সাথে নিজের ক‍্যাম্পাসে কিছুক্ষণ খোশ-গল্প করতে পারলে মন্দ হবে না।

১০। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কিছু কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে শিখবে। সেটা যত ছোট ইনকামই হোক না কেন। বাবা-মার কাছ থেকে আর কতদিন হাত খরচ নিবে?

১১। CGPA এর পেছনে দৌড়ালে জীবনে Excellency আসবে না। তাই, Excellency অর্জনের জন্য দৌড়াও। CGPA দেখবে ফ্রিতে চলে আসবে।

১২। যত বেশি মানুষের সাথে পারো নিজের ব‍্যক্তিগত যোগাযোগ সৃষ্টি করো। চাকরির বাজারে তোমার CGPA দিয়ে কাজ হবে না। সবাই চায় পরিচিত যোগ্য মানুষকে নিতে। তাই, শুধু যোগ্য হয়ে লাভ নেই।

১৩। জীবনের সুখ নামক ব‍্যাপারটাকে সফলতা/ CGPA দিয়ে সংজ্ঞায়িত করো না। সুখ পরিমাপ করবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কতগুলো স্মৃতি তৈরি করেছো তা দিয়ে।

১৪। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হচ্ছে জীবনের কাছে যখন হেরে যাবা তখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে সেটা শেখা। ব‍্যর্থতা অবশ্যই থাকবে। ফেল পরীক্ষায় না করলেও ব‍্যক্তিগত জীবনে তুমি অবশ্যই করবে। সেটা থেকে বের হয়ে আসার শিক্ষা অর্জন করতে পারলেই গর্ব করে নিজেকে শিক্ষিত বলে দাবি করো।

১৫। সিনিয়রদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখলে অনেক সুবিধা (এমনি চাকরি-বাকরি) পাওয়া যায়। টিপস হলো, কোন সিনিয়রকে রাস্তায় একা পেলে ট্রিট চেয়ে বসবা। তবে, তোমার সাথে যদি আরো 10-12 জন থাকে তাইলে কোন লাভ নেই। সর্বোচ্চ 4-5 জন খাওয়ানো যায়।

2011 সালে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হই। এই বছর (২০১৭) বিশ্ববিদ্যালয় আমার শেষ বছর। এই কয়েক বছরে আমি যে পরিমাণ স্মৃতি তৈরি করেছি সেটা রোমন্থন করেই বাকি জীবন পার করে দেয়া যাবে। তোমাদের সবার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন সুন্দর হোক!

লেখকঃ সামির মোনতাজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

Thanks | ধন্যবাদ

Wednesday, November 21, 2018

Preface to Education Magazine

শিক্ষাতথ্য সেবা


শিক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য জানতে নিয়মিত ভিজিট করুন 'এডুকেশন ম্যাগাজিন' ও আমাদের এই ব্লগটি Subscribe করুন।

ফেসবুকে আমাদের আপডেট পেতে লাইক দিন 'এডুকেশন ম্যাগাজিন' এর ফেসবুক পেজে। ফেসবুক পেজের লিংক→
facebook.com/educationmagazine10

শিক্ষা তথ্য জানুন, বিজ্ঞ হোন.../
মেহেদী হাসান
সম্পাদক, এডুকেশন ম্যাগাজিন।